আসমান ভেঙে জোসনা নামছে৷ নীল রঙা রুপোলী বিভায় ভাসছে সমগ্র চরাচর৷ এমন বিভাবিত রাতে একেকবার ভীষণ চাঁদে পেয়ে বসতো আমাকে৷ যে রাতে এমন ফিনিক ছোটা জোসনা নামতো হারিয়ে যেতাম৷ ঘোলাটে জোসনার নিচে বন্ধুদের সাথে গোটা রাত পার করে ভোরের আজানের কালে ফিরে আসতাম ঘরে৷ আসমান ভাঙা চাঁদের আলো উতলা করে তুলতো আমাকে৷ সে বহুকাল আগে, যখন যাপন করতাম শৈশবের জীবন, তখনকার কথা৷
আজকাল মন বিশেষ প্রসন্ন থাকে না৷ নতুবা চাঁদের জাগরণে আজও উন্মাতাল ঢেউ জাগে হৃদয়সমুদ্রে৷ আজও উতলা হয়ে ওঠে গৃহত্যাগী মন; কেবল, মনের সেই উদ্ভ্রান্ত আহ্বানে পূর্ববৎ সাড়া দেয়া হয়ে ওঠে না৷ মনটাই যেখানে মরা গাঙের মতো শুকিয়ে নিস্তরঙ্গ খাল হয়ে গেছে সেখানে এসব তারুণ্যে ভেজা জোয়ার আসবার আর উপায় কই! জোসনাপ্লাবিত হতে জেগে উঠবে হৃদয়-মন সে অবসর আর কোথায়! উল্টো বিরক্তি এসে জাপ্টে ধরে সময়ে সময়ে৷ ভীষণ পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে—জীবন ছেড়ে, নিশুতি চরাচর ছেড়ে, এই সব দিন আর রাত্রিগুলো ছেড়ে৷ জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করে ভীষণ৷ মনে হয়—জীবন! তোমাকে হারালেই যেনবা বাঁচি৷
