সমস্যা হলো—ইসলাম নারীকে যতটুকু অধীকার দিয়েছে আমরা তাকে আজ ততটুকুও দিচ্ছি না৷ ইসলাম প্রদত্ত তার হক ও অধিকারটুকুও তাকে দিতে আজ আমরা নারাজ৷
বাবার সম্পত্তিতে বোনের শরীয়তসম্মত যে হিস্যা সেটা ভাই তাকে দিচ্ছে না৷ ভাই হিসাবে বোনের প্রতি যে দায়িত্ব সেটুকু সে পালন করছে না৷
স্বামীর ওপর স্ত্রীর যতটুকু হক রয়েছে নানান দোহাই দিয়ে সে তা আদায় করছে না৷ দেনমোহর নিয়ে যে সমাজে কী হয়! মানুষকে দেখানোর জন্য, আত্মপ্রসাদে ডুবে যাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করা হয়৷ অথচ স্ত্রীকে তা শোধ করা হয় না৷ অনেকের কথা জানি—ভরণপোষণকেই দেন মোহর হিসাবে বলে থাকে৷ বলে—সারাজীবন খাওয়াচ্ছি৷ আবার দেন মোহর কীসের!
অনেক স্বামী তার স্ত্রীর সাথে হেসে কথা পর্যন্ত বলে না৷ পর্দার দোহাই দিয়ে স্ত্রীকে কোনোদিন বাড়ির বাইরে ঘুরতে পর্যন্ত নিয়ে যায় না৷
গতরাতে আমার এক বন্ধুর কথা জানলাম৷ সে ইসলাম পালন করে৷ মানে, মুখের দাড়ি, গায়ের পোশাক আর মাথার টুপি থেকে তেমনই মনে হবে আপনার৷ কিন্তু তার ব্যপারে জানতে পারলাম সে প্রায় রাতেই তার স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে৷
স্ত্রী যদি অপরাধ করে শরীয়ত সম্মত পদ্ধতি আছে তার প্রতিকারের৷ গায়ে হাত তোলার প্রয়োজন হলে তার সীমানাও শরীয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে৷ কিন্তু কে আজ সেসবের ধার ধারে! শরীয়া বলতে আমরা আজকাল মনে করি—মসজিদে গিয়ে তিন ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা৷
দীন ও ইসলাম সম্বন্ধে চারপাশে কেবল অসম্পূর্ণ ধারণা ও অপূর্ণাঙ্গতা দেখি৷ আর আমাদের দীন পালনের অপূর্ণাঙ্গতা থেকেই জন্ম নিচ্ছে নানা মতবাদের৷
শরীয়ত কন্যা-জায়া-জননীকে যতটুকু অধিকার দিয়েছে আমি তাদেরকে ততটুকু বুঝিয়ে দিচ্ছি না৷ ফলে নারীবাদীরা আমাদের নিয়ে মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছে৷ ইসলাম একজন মানুষকে, চাই সে যে ধর্মের হোক, যতটুকু অধিকার দিয়েছে তা আমি আজ প্রদান করছি না বলেই একদল মানুষ ইসলাম বাদ দিয়ে ‘মানবধর্মের’ আওয়াজকে উচ্চকিত করবার সুযোগ পাচ্ছে৷
আসলে সব নষ্টের গোড়া আমার দীন পালনে অপূর্ণাঙ্গতা৷ আমার পালিত আংশিক দীন দেখেই মানুষ এটাকে দীনের ত্রুটি বলে ভেবে নিচ্ছে৷ আমিও অন্যের হক মেরে ভাবতে পারছি যে আমি দীনদার৷
এমন হলে চূরান্ত সাফল্য আসবে না৷ চূরান্ত সফলতার জন্য পরিপূর্ণভাবে দীনে প্রবেশ করতে হবে৷ যার যতটুকু হক শরীয়ত আমার ওপর অপরিহার্য করেছে তার ততটুকু হক তার কাছে আমাকে পৌঁছে দিতে হবে৷ যার সাথে যেমত আচরণ শরীয়ত আমাকে করতে বলেছে তার সাথে তেমন আচরণ আমাকে করে দেখাতে হবে৷ দীনে প্রবেশ করতে হবে পরিপূর্ণভাবে৷
আল্লাহ তায়ালা বলছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণভাবে৷ [1]সূরা বাকারা, আয়াত: ২০৮
আমাকে মনে রাখতে হবে—যে কোন বিষয়ের সফলতা তার পূর্ণতা সাধনের মধ্যেই৷ আংশিক কোনো কাজে সাফল্য আসে না, আসবে না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করার তাওফিক দিন৷
তথ্যসূত্র:
| ↑1 | সূরা বাকারা, আয়াত: ২০৮ |
|---|

আমীন।
জাঝাকুমুল্লাহ।
Jazakallah.
মাশাআল্লাহ, অনেক সুন্দর বললেন।
জাযাকাল্লাহ ❣️
অনেক ভালো লাগলো।।