ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কার্যকরী মাধ্যম হলো ‘কাণ্ডজ্ঞান’৷
যে কোন বর্ণনা কিংবা ঘটনার বিবরণ আমরা যদি কাণ্ডজ্ঞানের মুখোমুখি করতে পারি তবে বহু ভুল তথ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রম আমরা এড়িয়ে যেতে পারব৷ আপনার কাণ্ডজ্ঞান যদি সজাগ থাকে তবে আপনার সমুখে উচ্চারিত কথা শোনা মাত্রই তা আপনি গ্রহণ করতে পারবেন না৷ আপনার এই ‘জাগ্রত কাণ্ডজ্ঞান’ই আপনাকে তা চোখ বুজে গিলে ফেলা থেকে বাধা দিবে৷ আপনার সমুখে কেউ যখন বলে উঠবে— অমুক বক্তার মাহফিলে দশ লক্ষ মানুষ হাজির হয়েছিলো, অমুক যুদ্ধে এতজন মানুষ শাহাদাত বরণ করেছিলো আপনার কাণ্ডজ্ঞান আপনাকে প্ররোচিত করবে চিন্তা করতে যে— মাহফিলের ময়দান ও তৎপার্শ্ববর্তী স্থানে আসলেই দশ লক্ষ মানুষের সংকুলান হবে কিনা! যে সময়কার যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে সে যুদ্ধে এত লক্ষ যোদ্ধার অংশগ্রহণ ভৌগলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিচারে সম্ভবপর কিনা!
এসব বিচারে আপনি তখনই যাবেন আপনার ‘কমন সেন্স’ যখন আপনার ভেতর শ্রুত বক্তব্যের প্রতি সন্দেহ জাগিয়ে তুলবে৷
ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমার ভূমিকার বিরাট অংশ জুড়ে পাঠককে এই বিষয়টিই বোঝাতে প্রয়াসী হয়েছেন৷ তিনি ঐতিহাসিক যে সকল বিভ্রাট উদাহরণ স্বরূপ হাজির করেছেন সেকল বিভ্রাটের গভীরে নজর দিলে এ বিষয়টাই আপনার নজরে ধরা পড়বে যে, সেসকল ভ্রান্তিকর বর্ণনার বর্ণনাকারীগণ যদি আরেকটু কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দিতেন তবে তাদের মাধ্যমে এই মারাত্মক ভ্রান্তিগুলো বিস্তার পেত না৷
এখন নিজের কাণ্ডজ্ঞান কিভাবে আরও ‘চোখা’ করা যায় সেটা নিয়ে আমি কিছুটা ভাবিত৷ উপায় জানা আছে কি?
