সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
আহমাদ সাব্বির
  • চিন্তালাপ
  • চিত্তশুদ্ধি
  • অতীত কথন
  • ব্যক্তিপুস্তক
  • গল্পপত্র
  • স্মৃতিমেঘ
  • ভাবচিত্র
  • বই কেন্দ্রিক
  • দিন যাপন
  • কবিতা ভবন
  • আমার বই
No Result
View All Result
  • চিন্তালাপ
  • চিত্তশুদ্ধি
  • অতীত কথন
  • ব্যক্তিপুস্তক
  • গল্পপত্র
  • স্মৃতিমেঘ
  • ভাবচিত্র
  • বই কেন্দ্রিক
  • দিন যাপন
  • কবিতা ভবন
  • আমার বই
No Result
View All Result
আহমাদ সাব্বির

তারিক বিন জিয়াদ

যে জন চিনায়েছে মোরে আন্দালুস

১৭ সেপ্টেম্বর , ২০২১
A A
তারিক বিন জিয়াদ
Share on FacebookShare on Twitter

১,

আন্দালুস৷ নামটি মুসলিম মাত্রেই বড় আবেগের সাথে স্মরণ করে৷ মুসলমানদের সাতশ বছরের শ্বাস প্রশ্বাস মিশে আছে আন্দালুসের জলো হাওয়ায়৷ চোখ বুজলেই যেন চোখের তারায় ভেসে ওঠে আন্দালুসের প্রতিটি ওলি গলি রাজপথ৷ আজকের ইউরোপ যখন বর্বরতা, অজ্ঞতা ও পারস্পরিক দন্দ্ব কলহে লিপ্ত, গভীর গহীন অন্ধকারে ডুবে আছে তাদের পৃথিবী মুসলিম আন্দালুস তখন পৃথিবীর সমুখে শিক্ষা ও সভ্যতার আলোকজ্জ্বল শিখা প্রজ্জ্বলিত করে চলছে৷ ইউরোপ যখন কালের নিদ্রায় বিভোর, তাদের দিনগুলো কাটছে ক্ষুধা আর দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে আর রাতগুলো অতিবাহিত হচ্ছে অনিদ্রার আয়োজনে আন্দালুস তখন অবস্থান করছে সভ্যতা সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের অনন্য উচ্চতায়৷ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উন্নতির ছোঁয়ায় আন্দালুসব্যাপী কেবল সুখী মুখ৷ কোথাও ছায়া নেই, কোথাও এক বিন্দু অন্ধকার নেই৷ চারপাশজুড়ে কেবল আলো আর আলো৷ পৃথিবী এই আলোকজ্জ্বল আন্দালুস দেখেছিল প্রায় সাতশ বছর৷ যে আলোয় কেবল আন্দালুস ভাসেনি, যে বিভায় বিভাবিত হয়নি কেবল স্পেন বরং সমগ্র ইউরোপ তার দ্যূতি নিয়ে আলোকিত হয়েছিল৷ দূর করেছিল নিজেদের অতীতদিনের বয়ে চলা তাবৎ অন্ধকার৷

আন্দালুসের এই আলোকজ্জ্বল বিভা কিন্তু মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি৷ সুদূর আফ্রিকা থেকে শতেক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ উত্তাল ঊর্মিমালা পার হয়ে সত্যের আলোকবর্তিকা হাতে ছুটে গিয়েছিলেন একজন মুসলিম সেনানায়ক৷ তিনি তারিক বিন জিয়াদ৷ আন্দালুসের বুকে সত্যের মশাল প্রজ্জ্বলনকারী হিসাবে যিনি ভাস্বর হয়ে আছেন পৃথিবীর ইতিহাসের স্বর্ণোজ্জ্বল পাতায়৷ এবং যতদিন থাকবে আন্দালুস, যতদিন মুক্ত বাতাসে শ্বাস ফেলবে এই পৃথিবী তারিক বিন জিয়াদ অ-বিস্মৃত থাকবেন৷ অমলিন রয়ে যাবে এই নাম অজস্র মানুষের হৃদয়ে৷

২,

আন্দালুস বিজয় ছিল মুসলমানদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন৷ কালে কালে বহু সেনাপতি আন্দালুস জয়ের স্বপ্ন দেখেন৷ অভিযানের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছিলেন তাদের অনেকে৷ হযরত উসমানের শাসনকালে মুসলিম বাহিনী কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) অবরোধ করে৷ কিন্তু জয় মুসলিম বাহীনির হাতে ধরা দেয় না৷ মুসলিম বাহিনী কনস্টান্টিনোপল জয় করতে ব্যর্থ হলে হযরত উসমান বলেন,

কনস্টান্টিনোপল বিজিত হবে নৌপথে৷ তোমরা যখন আন্দালুস বিজয় করবে তখন তোমরা শেষ যুগের কনস্টান্টিনোপল বিজেতা বাহিনীর সমান সওয়াব লাভ করবে৷ [1]তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়াল মুলক, ২/৫৯৮। ইবনে কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, … Continue reading হজরত উসমানের এই কথা থেকে আন্দালুস জয়ের গুরুত্ব যেমন বোঝা যায় তদ্রুপ আন্দালুস জয়ের প্রতি তার হৃদয়ের তামান্নাটাও পরিষ্ফুট হয়ে ধরা দেয়৷

হজরত উসমান যেদিন এই কথাটা বললেন তারও কিছুদিন পর৷ ইসলামি বিশ্বে তখন চলছে আমিরে মুয়াবিয়ার শাসন৷ তার সেনাপতি ছিলেন উকবা বিন নাফে৷ আফ্রিকা অভিযানের জন্য যিনি ইতিহাস-বিখ্যাত হয়ে আছেন৷ আফ্রিকা অঞ্চলে একের পর এক কার্যকারী অভিযান পকিচালনার পর তিনি তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন সমুখপানে৷ জয় করেন বর্তমানের তিউনিসিয়া ও মরোক্কো৷ মরোক্কো জয়ের পর উকবা বিন নাফে তার বাহিনী নিয়ে আটলান্টিকের তীরে পৌঁছে যান৷ কিন্তু তার চলার পথের মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আটলান্টিকের অথৈ জলরাশি৷ তবু তিনি দমে যান না৷ সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করে তিনি নিজেকে দায়মুক্ত করবার প্রয়াসী হন৷ ঘোড়াকে নামিয়ে দেন আটলান্টিকের স্বচ্ছ নীল জলে৷ ঘোড়ার বুক পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়৷ ভিজে ওঠে তার তার জামার আস্তিন৷ আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না৷ তিনি দু হাত তুলে ধরেন রবের উদ্দেশে৷ কায়োমনোবাক্যে উচ্চারণ করেন— আয় আল্লাহ! সমুখে যদি এই মহা সমুদ্র বাঁধা হয়ে না দাড়াতো আমি দীনের প্রচারের জন্য এবং কুফুরীর মূল উপড়ে দেবার জন্য সমুখপানে চলতেই থাকতাম৷ যতক্ষণ এ দেহের শিরা উপশিরায় রক্তধারা প্রবহমান থাকতো! [2]ইবনুল আছীর, কামিল ফিত তারীখ, ৫৯০, ১৯৮৯। মুহাম্মাদ মাহমুদ কাজী, ফাতিহু … Continue reading

৩,

কল্যাণী স্বপ্নের মৃত্যু নেই৷ বেঁচে থাকে তা যুগ পরম্পরায়৷ কেউ ভিত গড়ে দেয়, কেউবা এসে সেই ভিতের ওপর ইটের পর ইট সাজাতে প্রয়াসী হয়৷ আবার কেউ এসে আস্তর লেপে দেয় প্রাচীর জুড়ে৷ আর এভাবেই কালে কালে পূর্ণতা পেয়ে চোখের সমুখে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে নান্দনিক স্বপ্ন-প্রাসাদ৷

আন্দালুস জয়ের স্বপ্ন-প্রাসাদের যে ভিত তৈরী করে দিয়ে গিয়েছিলেন সেনাপতি উকবা বিন নাফে তার ওপর ইটের সার সাজাতে এগিয়ে এলেন মুসা বিন নুসায়ের৷ আমাদের গৌরবান্বিত অতীতের আরেক মহা পুরুষ৷

১৯ হিজরিতে জন্ম গ্রহণ করেন মুসা বিন নুসায়ের৷ তার শ্রদ্ধেয় পিতা নুসায়ের বিন আবদুর রহমান ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা৷ যিনি বিখ্যাত ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন৷ হযরত উমর ও উসমানের শাসনকালে হযরত মুআবিয়া যে সময়ে শামের গভর্নর নুসায়ের বিন আবদুর রহমান তখন শামের পুলিশ-প্রধান৷ [3]ইবনে হাজার, আল ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, ৫/১১০, ৬/৪৯৬

দামেশকে আমির ওমারার সন্তানদের সাথে অতিবাহিত হয় মুসার বাল্যকাল৷ শৈশব থেকেই তিনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিক্ষা গ্রহণ করতে থাকেন৷ এবং বুদ্ধিমত্তা ও সমর বিদ্যায় নিজেকে যোগ্য হিসাবে প্রমাণ করেন৷ যোগ্যতার পুরস্কার স্বরূপ যৌবনের শুরুতেই তিনি বসরার সহকারী গভর্নর হিসাবে নিয়োগ পেয়ে যান৷ এরপর হযরত মুআবিয়া যখন শাসন ক্ষমতায় আসেন মুসা বিন নুসায়ের তখন সাইপ্রাস অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন৷ সাইপ্রাস বিজিত হলে তাকে সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত করা হয়৷ গভর্নর থাকাকালীন তিনি সাইপ্রাসে বেশ কিছু মজবুত দুর্গ নির্মাণ করেন৷ যা সাইপ্রাসের গভর্নর হিসাবে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল৷ [4]যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৪/৪৯৬

৬৫ হিজরির কথা৷

খলীফা মারওয়ান বিন হাকাম তার পুত্র আবদুল আজিজ কে মিশরে পাঠান সেখানকার প্রশাসক হিসাবে৷ মুসা বিন নুসায়েরকে পাঠানো হয় তার সহকারী হিসাবে৷ বেশ কিছুকাল মুসা সহকারী প্রশাসক হিসাবে আবদুল আজিজ বিন মারওয়ানের সাথে কাজ করেন৷ এরপর ৭৭ কিংবা ৮৯ হিজরিতে তাকে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর হিসাবে পাঠানো হয়৷ উত্তর আফ্রিকার গভর্নর হয়ে আসাটা মুসা বিন নুসায়েরের জীবনে এক নতুন মোড় নিয়ে আসে৷ [5]ইবনে খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান, ৫/৩১৯

৪,

মুসা বিন নুসায়ের এক অস্থির সময়ে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর হয়ে আসেন৷

আফ্রিকার এই অঞ্চলটিতে আমাজিগ বা বার্বার নামে একটি গোত্র বাস করতো৷ এরা ছিল প্রচণ্ড সাহসী ও দুর্নিবার যুদ্ধবাজ৷ লড়াই, যুদ্ধ, সংঘর্ষ ছিল এদের রক্তে মিশে৷ উকবা বিন নাফে আফ্রিকা আক্রমণ করলে বারাবারেরা তার কাছে পরাজিত হয়৷ এবং ইসলাম গ্রহণ করে উকবা বিন নাফের হাতে৷ কিন্তু তাদের এই ইসলাম গ্রহণ ছিল গা বাঁচাবার একটা কৌশল মাত্র৷ মুসলিম বাহিনীর কাছে পরাজিত হলে তারা লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করতো৷ আবার কিছুদিন যেতেই, তারা যখন নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে আনতো, শক্তি সঞ্চয় করে উঠতে পারতো মুসলিম বাহিনীর মোকাবেলার জন্য তখন ইসলাম ছেড়ে মুরতাদ হয়ে যেতো৷ এভাবেই চলছিলো৷ শেষমেষ তারা মুসলিম খলীফার বিরুদ্ধে চুড়ান্ত বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসে৷ তাদের বিদ্রোহের কারণে আফ্রিকা অঞ্চলে মুসলিম শাসন হুমকির মুখে পড়ে যায়৷ বারবারদের সেই বিদ্রোহ দমনের গুরুভার দিয়ে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর করে পাঠানো হয় মুসা বিন নুসায়েরকে৷

মুসা বিন নুসায়ের বারবারদের মুরতাদ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করেন৷ মুসা বিন নুসাইর দেখলেন উত্তর আফ্রিকায় মুসলমানদের প্রথম অভিযান খুব অল্পসময়ে সমাপ্ত হয়েছিল। উকবা বিন নাফে ও তার সাথীরা দ্রুততার সাথে একের পর এক শহর জয় করে সামনের দিকে এগুচ্ছিলেন। এতে করে দুধরনের সমস্যার তৈরি হয়। প্রথমত নব্য ইসলাম গ্রহনকারী বার্বারদের মনে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি মমত্ববোধ তৈরী হতে পারে নি। কারন বার্বাররা এই মোবারক কাফেলার খুব বেশি সোহবত পায়নি। অপরদিকে এই বাহিনী কোথাও দীর্ঘদিন অবস্থান করেনি, ফলে মজবুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে উঠেনি। তারা সামনের দিকে এগুচ্ছিলেন ঠিকই কিন্তু তাদের পিঠ ছিল অরক্ষিত। ফলে বারবাররা পেছন থেকে হামলা চালাতো। [6]ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, ৬/১১০ মুসা বিন নুসাইর বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবলেন। তিনি নতুন করে আফ্রিকার ভেতরে অভিযান চালাতে শুরু করলেন। এবার তিনি পূর্বেকার অভিযানের ভিন্ন রীতি অবলম্বন করলেন৷ তিনি এগোতে থাকেন খুব ধীরে। একটি শহর জয়ের পর সেখানে নিজের পা মজবুত করে তবেই অন্য শহরের দিকে এগুচ্ছিলেন। এছাড়া বার্বারদের শিক্ষাদিক্ষার জন্য তিনি মদীনা ও শাম থেকে তাবেয়ী আলেমদের আফ্রিকায় নিয়ে আসেন। তাদের তত্বাবধানে বার্বারদের পরিচর্যা চলতে থাকে। এই প্রথম বার্বাররা ইসলামের সুন্দর রীতিনিতী ও আদর্শের সাথে পরিচিত হয়। ইসলামের প্রতি ভালোবাসা তাদের হৃদয়ের গহীনে প্রোথিত হয়ে যায়। যার ফলে তারা ইসলামকে আপন করে নেয় পরম আন্তরিকতার সাথে৷ আর কে না জানে—ইসলামই এমনই মহান এক ধর্ম যার মহানুভবতা অনুভূত হবার পর, যাকে আন্তরিকভাবে আপন করে নেবার পর তাকে আর ত্যাগ করা সম্ভব হয় না৷ [7]মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইনান, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ১/৫৯

৫,

উত্তর আফ্রিকা এখন পূর্ণরূপে শান্ত৷ বারবারদের বিদ্রোহ নেই৷ অভ্যন্তরীণ কোন সংঘাত-সংঘর্ষেরও কোনো প্রকার শঙ্কা নেই৷ মরোক্কো ও তিউনিসিয়াতে বইছে শান্তির হাওয়া৷ সেই নির্মল হাওয়ার ঝাপটায় মুসা বিন নুসায়েরের অন্থস্থিত স্বপ্নটা যেন সামনে এসে দাড়ালো৷ তার চোখের তারায় ফের ভেসে উঠলো স্বপ্ন-রাজ্য আন্দালুস৷ মুসা বিন নুসায়ের এবার আন্দালুস অভিযানের কথা ভাবতে শুরু করেন৷

তবে আন্দালুস অভিযান এত সহজ ছিল না৷ আন্দালুস জয় করতে হলে মুসা বিন নুসায়েরকে অতিক্রম করতে হবে জাবালে তারেক প্রণালী৷ আর আন্দালুস গিয়ে পৌছতে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ১৩ কিলোমিটার সামুদ্রিক পথ৷ সাধারণ নৌযান দ্বারা যে দূরত্ব অতিক্রম করা সহজ নয়৷ কিন্তু মুসা বিন নুসাইরের কাছে নৌযান ছিল খুবই কম। এটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। তখন পর্যন্ত মুসলমানরা বেশিরভাগ যুদ্ধ করছিল স্থলপথেই। শুধু ২৮ হিজরীতে সাইপ্রাসের যুদ্ধ ও ৩৫ হিজরীতে বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে যাতুস সাওয়ারির যুদ্ধে মুসলমানরা নৌপথ ব্যবহার করে। জাবালে তারেক পাড়ি দিতে মুসা বিন নুসাইরের প্রয়োজন ছিল বিশালাকার কিছু জাহাজ, যা তখনো তার কাছে ছিল না। দ্বিতীয়ত, আন্দালুসের পূর্বদিকে ছিল ব্যালিরিক দ্বীপপুঞ্জ। মুসার আশংকা ছিল তিনি আন্দালুসে হামলা করলে খ্রিস্টানরা পেছন থেকে হামলা চালাতে পারে। এসব ছাড়াও মুসা বিন নুসাইরের সামনে আরো একটি বড় বাধা ছিল৷ তা হলো সিউটা নগরী। তখন এই নগরী শাসন করতো জুলিয়ান নামে একজন শাসক। সিউটা নগরীর দখল ছাড়া জাবালে তারিক পাড়ি দেয়া ছিল কষ্টসাধ্য। তাছাড়া আশংকা ছিল মুসলিম বাহিনী জাবালে তারিক অতিক্রম করতে গেলে জুলিয়ানের বাহিনী পেছন থেকে হামলা চালিয়ে বসবে। জুলিয়ানের সাথে গথ রাজাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। এছাড়া আন্দালুস ভূখন্ড ছিল মুসলমানদের কাছে অপরিচিত। সেখানকার ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়ার সাথে মুসলমান মুজাহিদরা পরিচিত ছিলেন না। সেখানে হামলার পূর্বে এ বিষয়গুলো মুসা বিন নুসাইরকে দারুণভাবে ভাবাচ্ছিল। যার ফলে তিনি সহজে সিদ্ধান্তে স্থির হতে পারছিলেন না তার করণীয় সম্পর্কে৷

তবে কালক্ষেপন না করে মুসা বিন নুসায়ের তাৎক্ষণিক করণীয় গ্রহণে উদ্যোগী হন৷ জাহাজ স্বল্পতার সমাধানের জন্য তিনিএকটি নৌ-যান নির্মানের নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। জাহাজ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলে৷ অন্যদিকে মুসা বিন নুসায়ের বাকী সমস্যাগুলোর ওপর দৃষ্টি ফেলেন৷ খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হন সেসবের কার্যকরী সমাধান৷ [8]রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৩১-৩২

এমন সময় ঘটে যায় একটি অভাবনীয় ঘটনা৷ মহান আল্লাহর সাহায্য স্বশরীরে যেন নেমে এলো মুসা বিন নুসায়েরের দরবারে৷ আন্দালুস অভিযানে মুসলিম মুজাহিদদের একটি বড় শঙ্কার যায়গা ছিল কাউন্ট জুলিয়ান৷ মুজাহিদদের ভাবনা ছিল তারা জাবালে তারিক অতিক্রম করতে গেলে পেছন থেকে এসে জুলিয়ানের বাহিনী হামলা করে বসবে৷ কেননা আন্দালুসের রাজা ছিল জুলিয়ানের বন্ধু৷ বন্ধুর রাজ্যে হামলা হলে বন্ধু সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে এটাই তো স্বাভাবিক৷ তাই মুসলিম মুজাহিদদের একটি দুশ্চিন্তা ছিল সিউটা নগরীর যোদ্ধাদের নিয়ে৷ কিন্তু সেই দুশ্চিন্তা যে এভাবে দূর হয়ে যাবে এবং শঙ্কা রূপায়িত হবে সাহায্যে তা কারও ভাবনাতেই ছিল না৷

ঘটনা হলো—মুসা বিন নুসায়ের যখন আন্দালুস অভিযানের পরিকল্পনা করছেন এবং সম্ভাব্য সমস্যাবলী ও তার সমাধান খুঁজে বের করবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিক তখন আন্দালুসের রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আসে৷ গোথ রাজা গিতশাকে হত্যা করে ক্ষমতায় বসে তারই সেনাপতি রডারিক৷ রডারিক গিতশাকে হত্যা করে তার ক্ষমতা দখল করেই ক্ষান্ত থাকে না বরং গিতশার সমস্ত সম্পত্তি নিজের দখলে নিয়যে নেয়৷ তার সন্তানদের দেশছাড়া করে৷

সিউটার রাজা জুলিয়ান ছিলেন গিতশার বন্ধু৷ এই ঘোর দুর্দিনে গিতশার সন্তানেরা তাই কাউন্ট জুলিয়ানের কাছে গিয়ে হাজির হয়৷ হৃত ক্ষমতা পুনরূদ্ধারের জন্য এবং তাদের সহায় সম্পত্তির উদ্ধারের জন্য তারা জুলিয়ানের সাহায্য প্রার্থনা করে৷ কিন্তু রডারিকের বিরাট বাহিনীর মোকাবিলা করার সমর্থ জুলিয়ানের ছিল না৷ তাই সে আর রডারিকের ওপর হামলার সাহস করে উঠতে পারে না৷ এদিকে রডারিক ও দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে৷ মাত্রাহীন হয় পড়তে তাকে প্রজা সাধারণের ওপর তার নির্যাতন৷ করের অতিরিক্ত বোঝার ভার সহ্য করতে না পেরে জনগন হাসফাঁস করছিলো৷ তারও চাইছিলো রডারিকের ক্ষমতার পালা বদল৷ সব দিক বিবেচনা করে জুলিয়ান আন্দালুস অভিযানের আহ্বান জানিয়ে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসায়েরের কাছে পত্র প্রেরণ করে৷ [9]রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৩৭

জুলিয়ানের প্রেরিত সেই পত্রের সারবার্তা ছিল—জুলিয়ান মুসলিম বাহিনীকে আন্দালুস অভিযানে সহায়তা দিবে৷ সেই সাথে সিউটা বন্দরের অধিকার তুলে দিবে মুসলিম বাহীনির হাতে৷ অভিযান সহজার্থে আন্দালুস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যাদিও সে সরবরাহ করবে মুসলিম বাহিনীকে৷ বিনিময়ে জুলিয়ানের দাবী ছিল—আন্দালুস জয়ের পর গিতশার যাবতীয় সম্পদ তুলে দিতে হবে তার সন্তানদের হাতে৷ বর্ণিত আছে গিতশার মালিকানায় তিন হাজার ফসলী জমি ছিল যা রডারিক ক্ষমতা দখলের পর নিজ কব্জায় নিয়ে নেয়৷

কাউন্ট জুলিয়ানের এই প্রস্তাব ছিল অপ্রত্যাশিত এবং কিছুটা অবিশ্বাস্যও৷ আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে গিতশের সাথে বন্ধুত্ব ছাড়াও আরও কিছু বিষয় জুলিয়ানকে এই অবিশ্বাস্য প্রস্তাব প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছিলো৷ জুলিয়ান জানতেন—মুসলিম বাহিনী যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে তাতে করে তার অবশ্যই সিউটা নগরে হামলা করে বসবে৷ রডারিকের সাথে তার মিত্রতা নেই৷ আর সেটা হবারও নয়৷ বিচক্ষণতা হবে মুসলিম বাহীনি হামলার পূর্বেই তাদের সাথে মিত্রতা করে নেয়া৷ অনেকে আবার রডারিক কর্তৃক জুলিয়ানের যুবতী কণ্যা অপহৃত হবার কথা বলেন৷ যার প্রতিশোধ নিতে জুলিয়ান মুসলিম বাহীনির সাহায্য প্রার্থনা করেন৷

সে যাই হোক৷ জুলিয়ানের এই প্রস্তাব মুসলিম বাহীনির দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে দেয়৷ আন্দালুস অভিযানের পথে মুসলিম বাহীনির সামনে আর কোন বাঁধা থাকে না৷

৬,

মুসা বিন নুসায়েরের তো স্বপ্নই ছিল আন্দালুস অভিযান৷ তার ওপর কাউন্ট জুলিয়ানের এত সব প্রস্তাব মুসা বিন নুসায়েরের উৎসাহ তিন চার গুণ বাড়িয়ে দেয়৷ তিনি মানসিকভাবে তৈরি হতে থাকেন৷ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার তার এখতিয়ারে ছিল না৷ তিনি তো একজন গভর্নর কেবল৷ মুসলিম বাহিনীর ব্যাপারে এতবড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতেয়ার ছিল খলীফাতুল মুসলিমিনের৷ তখন খেলাফাতের দায়িত্বে আছেন ওয়ালীদ বিন আবদুল মালিক৷ মুসা বিন নুসায়ের বিস্তারিত জানিয়ে পত্র লিখলেন খলিফা বরাবর৷ অল্প ক’দিনের মধ্যে ফিরতি পত্রে খলীফার জবাবও তার হাতে এসে পৌঁছুলো৷ খলীফা লিখেছেন,

প্রথমেই সেখানে মূল বাহিনী পাঠানোর প্রয়োজন নেই৷ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনার জন্য সেখানে একটি ছোট্ট দল পাঠানো যেতে পারে৷ তাদের ফলাফলের ওপর সিদ্ধান্ত হবে চূড়ান্ত অভিযানের ব্যাপারে৷ [10]মাহমুদ শালবী, হায়াতু তারিক ইবনে জিয়াদ, ২৯

খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের পরামর্শটি যথার্থ ছিল৷ প্রথমত আন্দালুস একটি অপরিচিত যায়গা৷ সেখানকার ভূ প্রকৃতির সাথে মুজাহিদ বাহীনির তোন পরিচয় নেই৷ দ্বিতীয়ত আন্দালুস অভিযানে যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে৷ মুসলিম ভূ খণ্ড ও আন্দালুসের মাঝে থাকবে উত্তাল সমুদ্র৷ মুসলিম বাহীনি সেখানে কোনো বেকায়দায় পড়লে অনায়াসেই তাদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা পাঠানো যাবে না৷ এসব দিক বিবেচনা করে খলীফা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রথমে ছোট্ট একটি দল আন্দালুস পাঠানোর অনুমতি প্রদান করেন৷

অনুমতি পেয়ে মুসা বিন নুসাইর সামরিক প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেন। প্রাথমিক অভিযানের জন্য তিনি বার্বার সেনাপতি তরিফ বিন মালিককে নির্বাচন করেন৷ সেনাপতি তরিফ আন্দালুস অভিযানের জন্য পাঁচশ সৈনিকের সমন্বয়ে একটি বাহীনি প্রস্তুত করেন৷ এই বাহিনীতে অশ্বারোহী ছিলেন একশো জন। বাকি চারশো পদাতিক। তারা চারটি জাহাজে করে আন্দালুসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৯১ হিজরির রমজানে (৭১০ খ্রিস্টাব্দ) তারা আন্দালুসের মাটিতে পা রাখেন। কিছুকিছু বিবরন অনুযায়ী এ সময় তিনি সেখানে কয়েকটি ছোট অভিযান চালান। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ আন্দালুসের পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভ করেন। [11]হিময়ারী, আররাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা: ৩৫, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২৫৪ তরিফ যে দ্বীপে নেমেছিলেন, পরে তা জাজিরায়ে তরিফ বা তরিফ দ্বীপ (Terifa) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। [12]মাহমুদ শালবী, হায়াতু তারিক ইবনে জিয়াদ, ২৯

সফল অভিযান শেষ করে তরিফ মরক্কো ফিরে আসেন। পূর্বেই যেরূপ বলা হয়েছে— তরিফ বিন মালিকের আন্দালুস অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল সার্বিক পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ এবং আন্দালুস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ৷ যাতে করে তার পর্যবেক্ষণ ও বিবরণির ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত অভিযানের সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়৷ সে অনুযায়ী অভিযান থেকে ফিরে তরিফ মুসা বিন নুসাইরের কাছে আন্দালুস অভিযানের ব্যাপারে সবিস্তার বিবরণ প্রদান করেন৷ মুসা বিন নুসায়ের তরিফের প্রদত্ত বিবরনি মনোযোগ সহকারে শুনেন। সার্বিক পরিস্থিতি অবগত হবার পর আন্দালুস অভিযানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে মুসা বিন নুসায়েরের আর কোনো দ্বিধা থাকে না৷ তিনি তাই চূড়ান্ত অভিযানের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে স্থির হন৷ পরবর্তী এক বছর মুসা বিন নুসায়ের ব্যস্ত সময় পার করেন আন্দালুসগামী বাহীনি প্রস্তুত করার কাজে৷

এক বছরে সাত হাজার যোদ্ধা প্রস্তুত হয়। [13]হিময়ারী, আররাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা: ৩৫ যার অধিকাংশই ছিল আফ্রিকার বার্বার গোত্রীয়৷ যারা তাদের অতীত যুদ্ধ অভিজ্ঞতা ও স্বভাব সাহসিকতার বদৌলতে ইতোমধ্যে মুসলিম বাহিনীর মুল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে৷ ইসলামের শিক্ষা ও মহানুভবতার জন্যে যারা ইসলামের জন্যে আত্মোৎসর্গ করতে পারাটা নিজেদের সৌভাগ্য বলে মেনে নিয়েছে৷ মুসা বিন নুসায়েরের এখন প্রয়োজন কেবল একজন সেনানায়কের৷ যিনি স্বীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা দ্বারা বাহীনিকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন৷ আর সেই সেনা নায়ককে হতে হবে বার্বার গোত্রেরই কাউকে৷ যাতে করে সে সৈন্যদের মতিগতি সমঝে চলতে পারে৷ সবদিক বিবেচনা করে এই বাহিনীর নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয় তারিক বিন যিয়াদের হাতে। তারিক বিন জিয়াদের চাইতে অধিক সাহসী, অধিক বিচক্ষণ ও সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী বারবারদের মধ্যে দ্বিতীয় কেউ ছিল না৷

৭,

মুসা বিন নুসায়েরের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে যে সকল বারবার যুবক প্রতিপালিত হচ্ছিলেন তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন তাদের অন্যতম৷ তার অসীম সাহসিকতা, মনোবলের উচ্চতা, ভাষণের বিশুদ্ধতা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ও তাওহীদের কালিমা সমুন্নত করবার পর্যাপ্ত যোগ্যতা মুসা বিন নুসায়েরকে বিমুগ্ধ করে৷ ফলে মুসা বিন নুসায়ের তারিক বিন জিয়াদকে আর পাচজনের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতেন৷ সেই গুরুত্ব প্রদানের অংশ হিসাবে তিনি তারিককে তানজা বন্দরের দায়িত্ব প্রদান করেন৷ সেখানেও তিনি কর্তব্য আদায়ে নিষ্ঠার পরিচয় রাখেন৷ এতসব কারণে আন্দালুস অভিযানের সময় এলে মুজাহিদ বাহীনির নেতৃত্ব প্রদানের জন্য তারিক বিন জিয়াদকেই মুসা বিন নুসায়ের যোগ্যতম সেনা নায়ক বলে গণ্য করেন৷ এবং তার হাতে এত বিরাট দায়িত্ব সঁপে দিতে মুসা বিন নুসায়েরের মনে সামান্য দ্বিধা জাগে না৷ পরম নিশ্চিন্তে তিনি মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব তারিকের হাতে তুলে দেন৷ ইতিহাস সাক্ষী—তারিক বিন জিয়াদের ওপর ভরসা করে মুসা বিন নুসায়ের কোনো ভুল করেননি৷

৯২ হিজরীর শাবান মাসে (৭১১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস) এই বাহিনী আন্দালুসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। [14]তারিক বিন যিয়াদ কোন মাসে জাবালে তারিক প্রণালী পাড়ি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে … Continue reading তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী যখন রওনা হয় মুসা বিন নুসাইর সিজদায় পড়ে যান৷ সফলতা চেয়ে কায়োমনোবাক্যে ফরিয়াদ করতে থাকেন আল্লাহর কাছে। মুসলিম বাহিনী নিরাপদে সাগর পাড়ি দেয়। তারিক বিন যিয়াদ সাগরপাড়ি দিয়ে তীরবর্তী একটি পাহাড়ের কিনারে তার বাহিনীসহ অবতরন করেন। পরবর্তীতে এই পাহাড়ের নাম দেয়া হয় জাবালুত তারিক বা তারিকের পাহাড়। এখান থেকে তারিক বিন যিয়াদ আলজেসিরাস নামক বিস্তৃর্ণ এলাকায় পৌছলেন। এখানে মুসলিম বাহিনির সাথে আন্দালুসীয় বাহিনীর একটি ছোট দলের সংঘর্ষ হয়। তারিক বিন যিয়াদ এই বাহীনিকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করেন। তাদেরকে বলা হয়, যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তারা মুসলমানদের মতই সকল সুবিধা গ্রহণ করবে। তাদের সহায়-যম্পত্তির মালিকানাও থাকবে তাদেরই হাতে। আর যদি ইসলাম গ্রহণ করতে তারা সম্মত না হয় তবে খলীফার কোষাগারে জমা দিতে হবে জিজিয়া। এ ক্ষেত্রেও তাদের সম্পদের মালিকানা তাদের হাতেই থাকবে। আর যদি এদুটির কোনোটিই তারা মেনে না নেয় তাহলে তারা যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়।

বাহিনী তারিকের দাওয়াত ফিরিয়ে দেয়। ফিরিয়ে দেয় জিজিয়া দিয়ে খেলাফাতের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়ার প্রস্তাবও৷ যুদ্ধ করাটাই হয়তোবা তাদের মনঃপুত হয়৷ ফলে তারিক বিন জিয়াদের বাহীনির সাথে তাদের সংঘর্ষ বেঁঘে যায়৷ অনায়াসেই এই লড়াইয়ে মুসলিম বাহীনি জয়ী হয়৷

পরাজিত বাহিনীর প্রধান ছিল টুডমির৷ সে সাথে সাথে ঘটনার বিস্তার জানিয়ে পত্র লেখে রডারিকের কাছে। টুডমির তার চিঠিতে লেখে—

মহামান্য , আমাদের আক্রমন করা হয়েছে। আমরা জানি না আক্রমনকারীদের পরিচয়। তারা কে, বা তারা কোথা থেকে এসেছে। তারা আমাদের মাতৃভূমিতে প্রবেশ করেছে। আমরা তাদের মুখোমুখি হয়েছি। স্বদেশ রক্ষা করতে চাইলে আপনি তাদের মোকাবেলায় এগিয়ে আসুন। [15]মাক্কারী, নাফহুত তীব ১/২৪

রডারিক তখন আন্দালুসের অভ্যন্তরে উদ্ভূত বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত৷ টুডমিরের এই পত্র সে তাই বিশেষ আমলে নেয় না। রডারিক ধরে নেয় এরা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা সাধারণ কোনো দস্যুদল। কিছু এলাকায় লুটপাট চালিয়ে আবার ফিরে যাবে কিংবা পরাজিত হয়ে বেঘোরে মারা পড়বে সেনাবাহিনীর হাতেই। এদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই৷

তাই যখন সংবাদ এলো নতুন এই বাহিনী কর্ডোভার দিকে এগিয়ে আসছে তখন রডারিক তার ভাগ্নে বেনশিয়োকে একটি বাহিনী দিয়ে প্রেরণ করে। এই বাহিনী বেশ শক্তিশালী ছিল। আলজেসিরাসে (Algeciras) তারিকের বাহিনীর সাথে এই বাহিনীর তুমুল লড়াই হয়। তবে শেষ হাসি ভেসে ওঠে মুজাহিদদের মুখে৷ রডারিকের বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয়ে যায়—সেনাপতি বেনশিয়ো নিহত হয়। [16]সুহাইল তাকূশ, তারিখুল মুসলিমীন ফিল আন্দালুস, ৩৭-৩৮

যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া সৈনিকেরা রাজধানী টলেডো ফিরে গিয়ে যখন রডারিককে বিস্তারিত জানায় তখন তার টনক নড়ে। সে বুঝতে পারে এই বাহিনী সাধারণ কোনো বাহিনী নয়। তাদেরকে নেহায়েত দস্যূ মনে করা ছিল তার চরম বিভ্রম৷ যার মাশুল তাকে দিতে হয়েছে বিশ্বস্ত সেনাপতি ও ভাগ্নে বেনশিয়কে হারাবার মধ্য দিয়ে৷ রডারিক এবার ফুঁসে ওঠে৷ ক্ষোভ প্রসমিত করবার জন্যে এবং আন্দালুসের ভূমিতে অনুপ্রবেশকারীদের চলার পথ রুখে দিতে সে তার বাহিনীকে প্রস্তুত করতে থাকে।

৮,

রডারিক বিশাল সেনাবাহিনীসহ তারিকের বাহিনীর দিকে ধেয়ে আসে। আধুনিক গবেষকদের মতে এ সময় রডারিকের বাহিনীতে সৈন্যসংখ্যা ছিল এক লক্ষ। [17]রডারিক-বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা নিয়ে ঐদিহাসিকগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। … Continue reading যেখানে তারিকের বাহিনীর সেনাসংখ্যা মাত্র ৭ হাজার। কোনো বিচারেই তুলনা চলে না। তারিক তাই মুসা বিন নুসাইরের কাছে সাহায্য চেয়ে পত্র লিখেন। পত্র পেয়ে মুসা বিন নুসাইর তরিফ বিন মালিকের নেতৃত্বের আরো পাঁচ হাজার সেনা পাঠান তারিক বিন জিয়াদের সাহায্যার্থে৷ এবারে তারিকের বাহিনীর সেনা সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় বারো হাজারে৷ তবুও কি খুব বেশি! একদমই নয়৷ তবে মুসলিম বাহিনীর এ নিয়ে কোনো ভাবনা ছিল না৷ তারা তো অস্ত্র কিংবা জনবলে বলীয়ান হয়ে লড়াই করে না৷ তারা লড়ে যায় এক অল্লাহর ক্ষমতায় ভরসা করে৷ যুগে যুগে মুসলিম মুজাহিদের বিজয়ের ইতিহাস সেই চিত্রই চিত্রিত করে আমাদের সমুখে৷

তারিক লড়াইয়ের জন্য উপযোগী স্থান খুঁজতে থাকেন। সব দিক বিবেচনা করে বারবাত উপত্যকাকে (de Guadalete) তিনি যুদ্ধের জন্য সবচে’ উপযোগী বিবেচনা করেন। উপত্যকার ডানে ও পেছনে ছিল সুউচ্চ পাহাড়। আর বামদিকে ছিল একটি হৃদ৷ তিন দিক থেকেই মুসলমানেরা নিরাপদ বলা চলে৷ খোলা থাকলো কেবল সামনের দিক। তারিক এখানে রডারিকের বাহিনীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

৯২ হিজরীর ২৮ রমজান (১৯ জুন ৭১১ খ্রিস্টাব্দ) রডারিকের বাহিনী তারিকের বাহিনীর দিকে এগিয়ে আসে। রডারিক তার বাহিনীর সামনের দিকে অবস্থান করছিল। তার মাথায় ছিল স্বর্নের মুকুট, পরনে স্বর্নখচিত পোষাক। আর তার সিংহাসন বহন করছিল দুটি খচ্চর৷ রডারিক নিশ্চিত ছিল এ যুদ্ধে তাদেরই জয় হবে৷ এ গুটিকয়েক সৈন্য এক ফুৎকারেই মিলিয়ে যাবে হাওয়ায়। আত্মম্ভরিতায় তার চোয়াল ফুলে ফেঁপে উঠেছিল যেন৷ [18]ইবনে আ’যারী, আল বায়ানুল মুগরিব, ২/৭

২৮ রমজান দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেলো। দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। টানা আটদিন চলতে থাকে সে লড়াই। এমনকি ঈদের দিনেও মুসলমানরা রডারিকের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছিল। খ্রিস্টান বাহিনী সামুদ্রিক ঝড়ের মতো আছড়ে পরছিল মুসলমান বাহিনীর ওপর। কিন্তু মুসলমানরা ছিল অটল-অবিচল৷ যেন সীসাঢালা প্রাচীর কোনো। তারা বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ করে যাচ্ছিল প্রতিটি আঘাত। লড়াই তেতে ওঠার সমান্তরালে দুই পক্ষেই বাড়তে থাকে নিহতের সংখ্যা। অবশেষে সেনাপতি তারিক অসাধারণ বীরত্বের সাক্ষর রেখে কাফের বাহিনীর অভ্যন্তের ঢুকে পড়েন। তার অসাধারণ বিরত্বে কাফেরদের শৌর্য মিইয়ে আসে৷ রডারিক নিহত হয়েছে—এমন সংবাদ চাউর হয়ে পড়লে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় কাফির বাহিনী৷ তারা জীবন হাতে করে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে৷ আর এরই মধ্য দিয়ে যুদ্ধে ইতি পড়ে৷ যুদ্ধ যেদিন শেষ হয় দিনটি শাওয়ালের ৫ তারিখ। [19]মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২৫৯

এই যুদ্ধে পরাজয়ের পর রডারিকের আর কোনো সংবাদ মেলেনি। কারো মতে রডারিক নিহত হয়েছিল। কারো মতে সে দূরে কোথাও পালিয়ে যায়। তবে একটি গ্রহণযোগ্য বর্ণনামতে ময়দান থেকে পালিয়ে যাবার পথে নদীতে ডুবে তার মৃত্যু হয়৷

৯,

এ যুদ্ধে জয় লাভের ফলে প্রচুর ঘোড়া মুসলিম মুজাহিদদের হস্তগত হয়। এতে করে মুসলিম বাহিনীতে অশ্বারোহীর যে অভাব ছিল তা কমে আসে কিছুটা৷ এ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করা সৈন্য সংখ্যা ছিল তিন হাজার। বারো হাজার থেকে সেনাসংখ্যা নেমে আসে ৯ হাজারে। তবে যুদ্ধ জয়ের সংবাদ পেয়ে উত্তর আফ্রিকা থেকে দলে দলে স্বেচ্ছাসেবী এসে তারিকের বাহিনীতে যোগ দেয়ার কারণে সৈন্যাভাব কিছুটা লাঘব হয়। বরং তারিকের বাহিনীর আকার বৃদ্ধি পায় পূর্বের চাইতেও অধিক৷ [20]হিময়ারী, আর রাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা-৩৫। হুসাইন মু’নিস, ফাজরুল আন্দালুস, … Continue reading

এদিকে যুদ্ধে হেরে খ্রিস্টান বাহিনীর মনোবল তলানিতে গিয়ে পৌঁছে। সেই মনোবল একদমই গুড়িয়ে দিতে তারিক বিন জিয়াদ তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন৷ তারিক তার বাহিনীকে কয়েকটি দলে বিভক্ত করেন। যার একটি দলের নেতৃত্বে নিজে থেকে রওনা হন দক্ষিন আন্দালুসের শহর ইসিজার (Ecija) দিকে। যেখানে রডারিকের বাহিনীর জীবিত সদস্যরা একত্রিত হয়ে তারিকের ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসিজা যাওয়ার পথে তারিক সিডোনিয়া (Medina-Sidonia) ও মুরুর (Moron di la Frontera) শহর দুটি জয় করেন। ইসিজার পৌঁছে সেখানে খ্রিস্টান বাহিনীর সাথে মুসলিম মুজাহিদদের তীব্র লড়াই হয়। কিন্তু খৃস্টানরা টিকতে পারে না মুসলিম বাহিনীর সমুখে৷ [21]মাক্কারী, নাফহুত তীব ১/২৬০ এক পর্যায়ে খ্রিস্টানরা বাধ্য হয় কেল্লার ফটক খুলে দিতে৷ এভাবেই শহরটির মুসলিমদের হাতে বিজিত হয়৷ সেখান থেকে তারিক তার বাহিনী নিয়ে রওনা হন উত্তর আন্দালুসে; রাজধানী টলেডোর দিকে। অপর দিকে তারিক তার বিভক্ত করা ক্ষুদ্র বাহিনীগুলো পাঠালেন কর্ডোভা, গ্রানাডা ও মালাগার শহর অভিমুখে। এই দলগুলোতে গড়ে সৈন্যসংখ্যা ছিল মাত্র সাতশ’। আর স্বল্প সংখ্যক সৈন্যের হাতেই পতন ঘটে এই শহরগুলোর। সবগুলোই যুদ্ধের ফলে বিজিত হয়েছে এমন নয়; কিছু শহর বিজিত হয় জিযিয়ার মাধ্যমে। [22]রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস- ৫৭

১০,

তারিক বিন যিয়াদ রওনা হয়েছেন টলেডোর দিকে; সেকালে আন্দালুসের রাজধানী। বর্তমান স্পেনের মাদ্রিদ শহর থেকে যার দূরত্ব ৯১ কিলোমিটার। এই শহরটিরই তিন দিক থেকে বেষ্টন করে আছে খরস্রোতা টাজু নদী৷ (Tagus River)

মুসা বিন নুসাইর আগেই তারিক বিন যিয়াদকে কর্ডোভা অতিক্রম করতে ও টলেডো আক্রমন করতে নিষেধ করছিলেন। মুসার আশংকা ছিল—তারিক আন্দালুসের যত ভেতরে যাবেন খৃস্টনরা তাকে ঘিরে ফেলার আশংকা ততোই বাড়তে থাকবে৷ এছাড়া মুসা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও দেখেছিলেন, প্রতিটি শহর জয়ের পর তাড়াহুড়া না করে সেখানে আগে নিজের অবস্থান মজবুত করাটা জরুরি। [23]ইবনে কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/৯, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২২৩

মুসার আদেশ অমান্য করবার কোনো ইচ্ছাই তারিক বিন জিয়াদের ছিল না৷ কিন্তু তারিক দেখেন—খৃস্টান বাহিনী এখন ছত্রভঙ্গ৷ এ অবস্থায় তাদেরকে কাবু করা যতোটা অনায়াস হবে তারা ফের সংঘবদ্ধ হবার পর ততোটা অনায়াস হবে না৷ তাছাড়া এমনিতেই টলেডোর কেল্লা ছিল খুবই মজবুত। কেল্লা রক্ষার জন্যে খৃস্টান বাহিনীর নতুন করে কোনো সুযোগ দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না৷ তারিক তাই দ্রুত টলেডো নিজের নিয়ন্ত্রনে নিতে চাচ্ছিলেন। বাস্তবেও তারিকের ধারণা ফলপ্রসু হলো। শহর জয় করতে তাকে কোনো প্রকার প্রতিরোধেরই সম্মুখীন হতে হলো না। টলেডোবাসী যেন মুসলিম বাহিনীর আগমনেরই প্রতীক্ষাতে ছিলো৷ তারা আসতেই খুলে দিল কেল্লার সব কটি দ্বার৷ কোনো প্রকার সংঘাত ছাড়াই আপাত মজবুত কেল্লা মুসলিমদের হাতে চলে এলো৷ [24]মাক্কারী, নাফহুত তীব-১/২৬৪-২৬৫

তারিক টলেডো থেকে ক্যাস্টোলা (Castile) ও লিওনের (Leon) দিকে এগিয়ে গেলেন। গোথদের তাড়িয়ে নিলেন আস্তুরিয়াসের (astorga) দিকে। ক্লান্ত গোথরা আশ্রয় নিল আন্দালুসের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত গ্যালিসিয়া (Galicia) অঞ্চলের পর্বতমালায়। এরপর তারিক পৌছে যান বিস্কে (Bay of Biscay) উপসাগরের কিনারায় । এখানে এসে সমাপ্ত হয় তারিকের আন্দালুস অভিযান৷ [25]রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৫৭ তবে মুসা বিন নুসায়ের আরও কিছুদূর সামনে অগ্রসর হন এবং তার অভিযান অব্যাহত রাখেন৷ আর মাত্র তিন বছরের মধ্যে মুসলমানরা পুরো আন্দালুস জয় করে ফেলে। তাদের সামনে শুধু সাখরাতু বুলাইয়া নামে একটি শহর জয় করা বাকি থাকে। এই শহরটিও তারা জয় করতেন। বরং মুসার ইচ্ছা ছিল এরপর তিনি ফ্রান্সে অভিযান পরিচালনা করবেন এবং ইউরোপের ভেতরে প্রবেশ করবেন। তিনি বারবার বলতেন, আমার সামর্থ্য হলে আমি কন্সটান্টিনোপলে হামলা চালাবো। অথচ তার বয়স তখন পচাত্তর বছর। এই বয়সে নিজের মহলের নরম বিছানাইহতে পারতো তার পরম কাম্য। কিন্তু তা না করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন যুদ্ধের রুক্ষ কঠোর জীবন।

মুসা বিন নুসাইর তার অভিযান অব্যাহত রাখতেন কিন্তু তার আগেই দামেশক থেকে খলিফা খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের বার্তা এল মুসার কাছে। খলিফা মুসা ও তারিককে অভিযান স্থগিত করে দামেশক ফিরে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। খলিফা এই আদেশ কেন দিয়েছিলেন তা নিয়ে নানা মত আছে। তবে বিভিন্ন বর্ননা দেখে যা বোঝা যায়, নিজ দেশে থেকে বহুদূরে মুসলিম বাহিনী লড়াই করছিল। খলিফা তাদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। খলিফা জেনেছিলেন মুসা আরো সামনে অভিযান চালাতে চান। খলিফার মতে এ সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী। তিনি মুসলিম বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলেন। মূল কারণ যাই হোক, খলিফার বার্তা পেয়ে মুসা ও তারিক তাদের অভিযান সমাপ্ত করেন। [26]ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন ৪/১১৭-১১৮ মুসা ভারাক্রান্ত হ্নদয়ে দামেশকে ফিরে আসেন। তার সাথে তারিক বিন যিয়াদও দামেশকে আসেন। তারা যখন দামেশকে পৌছেন খলিফা তখন মৃত্যুশয্যায়। খলিফার মৃত্যুর পর শাসনক্ষমতা আসে তার ভাই সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের হাতে। ঐতিহাসিক ইবনে কাসিরের মতে, মুসা বিন নুসাইর নতুন খলিফার রোষের শিকার হন। খলিফা তাকে বন্দী করেন এবং তার সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এক বছর পর ৯৭ হিজরীতে খলিফা হজের সফরে গেলে মুসাকেও সাথে নিয়ে যান। হজ্ব শেষে মদিনাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন। [27]যাহাবী, তারিখুল ইসলাম ৬/৪৮৯

এদিকে দামেশকে ফিরে আসার পর তারিক বিন যিয়াদ হারিয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতা থেকে। তিনি কতদিন বেচে ছিলেন বা কোথায় ছিলেন সে ব্যাপারে ইতিহাস নীরব। সম্ভবত হঠাত অভিযান মুলতবী করে ডেকে আনায় তার মন ভেংগে যায় এবং তিনি একাকী জীবন যাপন করতে থাকেন। অভিমানই হয়তোবা তারিক বিন জিয়াদকে নিয়ে যায় গভীর গহীন একাকীত্বের দিকে।

 

তথ্যসূত্র:[+]

তথ্যসূত্র:
↑1তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়াল মুলক, ২/৫৯৮। ইবনে কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/১৭১
↑2ইবনুল আছীর, কামিল ফিত তারীখ, ৫৯০, ১৯৮৯। মুহাম্মাদ মাহমুদ কাজী, ফাতিহু ইফরিকিয়্যাহ, ৪৫
↑3ইবনে হাজার, আল ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, ৫/১১০, ৬/৪৯৬
↑4যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ৪/৪৯৬
↑5ইবনে খাল্লিকান, ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান, ৫/৩১৯
↑6ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন, ৬/১১০
↑7মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইনান, দাওলাতুল ইসলাম ফিল আন্দালুস, ১/৫৯
↑8রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৩১-৩২
↑9রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৩৭
↑10, ↑12মাহমুদ শালবী, হায়াতু তারিক ইবনে জিয়াদ, ২৯
↑11হিময়ারী, আররাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা: ৩৫, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২৫৪
↑13হিময়ারী, আররাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা: ৩৫
↑14তারিক বিন যিয়াদ কোন মাসে জাবালে তারিক প্রণালী পাড়ি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে বর্ণনাগত বিরোধ রয়েছে। ইবনুল আছীর, ইবনে আ’যারী, যাহাবী ও মাক্কারীর মতে তিনি রজব মাসের ৫ তারিখে প্রণালী পাড়ি দিয়েছিলেন। অপরদিকে হিময়ারী ও ইবনুল খতীব অনির্দিষ্টভাবে রজব ও শা’বান উভয় মাসের নাম উল্লেখ করেছেন।–রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৪০
↑15মাক্কারী, নাফহুত তীব ১/২৪
↑16সুহাইল তাকূশ, তারিখুল মুসলিমীন ফিল আন্দালুস, ৩৭-৩৮
↑17রডারিক-বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা নিয়ে ঐদিহাসিকগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সর্মনিম্ন ধারণা মতে তার সৈন্যসংখ্যা ছলো ৪০ হাজার, যেমনটি ইবনে খালদুন উল্লেখ করেছেন; আর সর্বোচ্চ ধারণা হলো ৬ লক্ষ, যেমনটি হিময়ারী উল্লেখ করেছেন। ঐতিহাসিক মাক্কারী ও আধুনিক গবেষক হুসাইন মু’নিস এর মতে রডারিক বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিলো ১ লক্ষ।–রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৪৩
↑18ইবনে আ’যারী, আল বায়ানুল মুগরিব, ২/৭
↑19মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২৫৯
↑20হিময়ারী, আর রাওযুল মি’তার, পৃষ্ঠা-৩৫। হুসাইন মু’নিস, ফাজরুল আন্দালুস, পৃষ্ঠা- ৭২
↑21মাক্কারী, নাফহুত তীব ১/২৬০
↑22রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস- ৫৭
↑23ইবনে কাসীর, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/৯, মাক্কারী, নাফহুত তীব, ১/২২৩
↑24মাক্কারী, নাফহুত তীব-১/২৬৪-২৬৫
↑25রাগিব সিরজানী, কিসসাতুল আন্দালুস, ৫৭
↑26ইবনে খালদুন, তারিখে ইবনে খালদুন ৪/১১৭-১১৮
↑27যাহাবী, তারিখুল ইসলাম ৬/৪৮৯
Login
guest
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
theonlinecasino
theonlinecasino
21 days ago

[3836]theonlinecasino লগইন করুন এবং বিকাশ দিয়ে স্লট গেম খেলুন,theonlinecasino app ডাউনলোড করে লাইভ ক্যাসিনো বোনাস অফার পান এবং অনলাইন রুলেট খেলার নিয়ম শিখে আজই জয়েন করুন। visit: theonlinecasino

0
Reply
www.ahmadsabbir.com | Developed by Shabaka IT
No Result
View All Result
  • চিন্তালাপ
  • চিত্তশুদ্ধি
  • অতীত কথন
  • ব্যক্তিপুস্তক
  • গল্পপত্র
  • স্মৃতিমেঘ
  • ভাবচিত্র
  • বই কেন্দ্রিক
  • দিন যাপন
  • কবিতা ভবন
  • আমার বই

www.ahmadsabbir.com | Developed by Shabaka IT

wpDiscuz