সারাবেলা আমি শুধু মানুষ দেখি–
রিক্ত মানুষ, শুন্য মানুষ, তুমুল নিঃস্ব বিমর্ষ মানুষ।
দেখি–হেঁটে চলা অবয়ব
পরাজিত, পরাভূত, তীব্র ভীত ও শঙ্কিত আদল।
দেখি–চূর্ণ ও ক্ষয়ে যাওয়া কঙ্কালের ওপর একতাল থেথলে যাওয়া ‘মানুষ’।
সারাবেলা আমি এইসব মানুষ দেখি।
ঘুমের ভেতর চমকে উঠি
জাগরণে বিহ্বল আমি মগ্ন মৈনাকের মতোন হাঁটুতে মুখ গুঁজে নিমগ্ন থাকি।
সারাবেলা আমি শুধু মানুষ দেখি–
চেনা মানুষ, অচেনা মানুষ, নিখোঁজ মানুষ, নিমগ্ন মানুষ
আর দেখি, শোকের জলে জলাচ্ছন্ন তুমুল বিলোড়িত একদল ক্ষয়িষ্ণু মানুষ।
এত মানুষের ভিড়ে আমি কেবল প্রাণ দেখি না।
তবু, সমস্ত প্রহরজুড়ে আমি শুধু মানুষ দেখি।
রঙিন মানুষ, কালো মানুষ
ঘাড় ঘুরিয়ে মুখ ফিরিয়ে শূন্য মনে ফিরে যাওয়া উদাস মানুষ;
ত্রস্ত মানুষ, সন্ত মানুষ, মানুষ দেখে মুখের আদল বদলে নেয়া অন্য মানুষ
মানুষে মানুষে ভরে গেছে পৃথিবী-চরাচর।
তবু আমি এইসব মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ দেখি না।
