এই বাংলাদেশে, বাংলা ভাষাতে যারা বর্তমানে লিখছেন তাদের মধ্য থেকে যাদের গদ্য আমি আলাদাভাবে শনাক্ত করে উঠতে পারি তাদেরই একজন হলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম৷
তার ছোটগল্প আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে আসছে৷ তার উপন্যাসও আমাকে আনন্দ দেয়৷ মূলত তার সমগ্র রচনারই— সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধাদি ছাড়া, সেগুলো পাঠে আমি বিশেষ আকর্ষণ বোধ করি না; প্রবন্ধে তার অতিরিক্ত পাণ্ডিত্য জাহিরের কারণে কিংবা আমার বিদ্যার স্বল্পতার কারণে তার অধিকাংশ প্রবন্ধ আমার অনাস্বাদিত থেকে যায়— আমি এক মুগ্ধ পাঠক৷ তার ছোটোগল্পগুলোকে আমার কাছে ছোটোগল্পের সার্থক উদাহরণ বলে মনে হয়৷ প্রতিটি গল্পে ভিন্নতর ম্যাজিক নিয়ে হাজির হন যেন৷ তবে সেই ম্যাজিকে কেবলই যে পরাবাস্তবতা থাকে তা নয়; বাস্তব, আধো বাস্তব সব কিছুরই মিশেল থাকে তার গল্পে৷ তার গল্পের শক্তির যায়গাটা আমার কাছে যেটা মনে হয়— পাঠক যা ভেবে আসছে শুরু থেকে শেষে দেখা যায় তা নয়; তবে কি উল্টোটা? ঠিক উল্টোটাও ঘটে না৷ কি ঘটে তা চেতন অবচেতন কোনভাবেই পাঠকের চিন্তাতে গল্পটি পড়ে ওঠা পর্যন্ত আসে না৷
যাক, এসব কথা আরেকদিন বলা যাবে৷ আজ তার গল্প নিয়ে আলাপ করতে বসিনি৷ আজ বসেছি মাত্র পড়ে ওঠা তার উপন্যাস ‘দিনরাত্রিগুলি’ নিয়ে কিছু বলবার জন্যে৷
দুই,
উপন্যাসের কাহিনী অতি অসাধারণ কিছু নয়; খুবই সাধারণ৷ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র যে অধ্যাপক, তার বাবা-মা’র মধ্যকার সম্পর্ক ছিল তিক্ততার চূড়ান্ত৷ কাজের বুয়াকে প্রায় রাতে দেখা যেত তার বাবার শোয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে৷ বাবার হাতে মাকে নিগৃহীত হতে দেখে আসে শৈশবে উপলব্ধতার বয়স পর্যন্ত৷ ছাত্র বয়সে জড়িয়ে যায় বাম রাজনীতি, আন্দোলন, গণ মানুষের মুক্তির সংগ্রাম— এসবের সাথে৷
এমনই সব কাহিনিতে পূর্ণ উপন্যাসটি৷ যে কাহিনী কেন্দ্র করে আরও হাজারো ঔপন্যাসিক গল্প ফেঁদেছেন৷ তার পরও সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের দিনরাত্রিগুলি আমাকে শেষ পর্যন্ত প্রবল আকর্ষণে টেনে রেখেছে৷ এবং অতঃপর উপন্যাসটি পড়ে ওঠা মাত্র আমার গহন থেকে ‘আহ’ ধ্বনিযোগে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এসেছে৷ এটা কি একটা উপন্যাসের ভালত্ব বিচারের মাপকাঠি হতে পারে!?
আমি টের পাচ্ছিলাম গল্পটির পরিণতি কেমন হতে পারে; এবং সম্পূর্ণতই আমার ভেবে নেয়া চিত্র কল্পের মাধ্যমে পরিণতি যদিও এগোচ্ছিল তবু আমি উপন্যাসটি ছাড়তে পারছিলাম না৷ একটা পরিচিত এবং বহুবার পঠিত প্লট হলেও ‘দিনরাত্রিগুলি’র মধ্যে আমি একটা অনন্যতা খুঁজে পাচ্ছিলাম৷ সেটাই হয়তবা, হয়তবা নয়, নিঃসন্দেহে এই উপন্যাসটির যাদু৷ তা হলো— গল্প বলার আঙ্গিক৷ পরিচিত প্লট হলেও আঙ্গিকটা আমার কাছে সম্পূর্ণই নতুন লাগছিল৷ এমন একটা সাধারণ গল্পকে যে এমন ভাবেও বলে যাওয়া যায়— সেটাই আমাকে বিস্মিত করছিল বারবার৷
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম দুই অনুচ্ছেদে পুরো গল্পটি একবার বলে উঠেছেন৷ তারপর আবার প্রথম থেকে একটু একটু করে বলা শুরু করেছেন যেন৷ যেমন আজকাল হয় আরকি! একটা সিনেমা বের হলে প্রথমে তার টেইলার দেখানো হয়; কয়েকদিন৷ দর্শকেরা যখন বিমুগ্ধ হয়ে বলাবলি করতে শুরু করে টেইলারের ওপর নির্ভর করে সিনেমাটির নানান চরিত্র নিয়ে৷ তারপর সিনেমাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে দর্শক সমাজে আবির্ভূত হয়৷ তখন তা দেখে দর্শক তার পূর্বে ভেবে নেয়া কাহিনীসমষ্টিকে মিলিয়ে নিতে থাকে৷
এও যেন সেরকম৷
আরও অনেক বিষয় আছে এখানে৷
আঙ্গিক নিয়ে দীর্ঘ আলাপ কি এস্থানে সমীচিন হবে?
তিন,
অধ্যাপক, যিনি উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র, তার স্ত্রী তাকে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছেন; স্ত্রীর ধারণা— অধ্যাপক মানসিকভাবে সুস্থ নন৷ বিকারগ্রস্ত৷ কিন্তু মজার বিষয় হলো— অধ্যাপকের কোন ক্রিয়াকলাপে পাঠকের এটা মনে হবে না৷ মজা এটাই যে, চিকিৎসক নিজেও মানতে নারাজ— অধ্যাপক অসুস্থ৷ যে জন্য ,মনিকা, যিনি অধ্যাপকের স্ত্রী তাকে মানসিক চিকিৎসক বেশ বকাঝকাও করেন— অন্য রোগীর সময় বেকার অপচয়ের অপরাধে৷
তবে কি মনিকা নিজের স্বামী সম্পর্কে ভুল অনুমান করেছেন?
নতুবা মনিকা দমছেন না কেন?
যখন এক মনোচিকিৎসক তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন মনিকা তার অধ্যাপক স্বামীকে নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন আরেক চিকিৎসকের দ্বারে৷ আর অধ্যাপক তার স্ত্রীর কথামতো জীবনের ঘটনা পরম্পরা শুনিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক মনোচিকিৎসককে৷ এভাবেই লেখক অধ্যাপকের জবানীতে অনবরত বলে যাচ্ছেন জীবনঘনিষ্ট ঘটনা-দুর্ঘটনা এবং তার বিশ্লেষণ৷ অধ্যাপকের বয়ানে লেখক তার রাজনৈতিক নানান দর্শন পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন গল্পের বিভিন্ন ভাঁজে— এমন আমার মনে হয়েছে৷
চার,
উপন্যাসটি আপনারা পড়তে পারেন৷ ‘দিনরাত্রিগুলি’ নামে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে প্রথমা৷

[2426]casinonic login করুন | বিকাশ পেমেন্টে সেরা অনলাইন স্লট গেম,casinonic login করুন এবং সেরা অনলাইন স্লট গেমগুলো উপভোগ করুন। বিকাশ দিয়ে অনলাইন ক্যাসিনো পেমেন্ট ও casinonic app download করে এখনই খেলা শুরু করুন। visit: casinonic